সহস্র সহস্র হিন্দুদের মন্দির এবং উপাসনাস্থল বর্তমানে ভগ্ন, বিধ্বস্ত এবং খণ্ডিত। স্বাধীনতার ৭০ বৎসর পরেও  বহু মন্দির রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এবং অব্যবহারের ফলে জীর্ণ। এই সমস্ত ভগ্ন দীর্ণ ধ্বংসপ্রায় হিন্দু মন্দিরের পুনর্নির্মাণ এবং জীর্ণোদ্ধারণ একান্ত প্রয়োজন। এর মধ্যে কিছু কিছু মন্দির ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আছে। তাদের সম্বন্ধেও একই কথা খাটে। এই সমস্ত মন্দিরে আবার উপাসনা শুরু করা আবশ্যক। বেদ পাঠশালা, ধ্রুপদী এবং লোককলা, সাহিত্য, নৃত্যকলা, সঙ্গীত, চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপত্য যা আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গাঙ্গিক ভূষণ সে সমস্ত কিছুই মৃত্যুর পথে। সনাতন ধর্মের এবং আমাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের সংরক্ষণ এবং আদান-প্রদানের মাধ্যম আমাদের সংস্কৃতি আজ পৃষ্ঠপোষকের অভাবে মৃতপ্রায়। এইসব কলায় নিরত শিল্পীরা জীবিকা নির্বাহে অক্ষম। সনাতন ধর্ম আমাদের সভ্যতার ভিত্তিস্বরূপ এবং সনাতন ধর্মের লালন পালন ব্যতিরেকে আমাদের এই মহৎ এবং একমাত্র জীবিত প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী। সেই দুর্ভাগ্যজনক ক্ষেত্রে একমাত্র আমরাই, স্বাধীন ভারতের হিন্দুরাই, হব দায়ী। বিজেপি তাদের ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইস্তাহারের মুখবন্ধে এবং ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থান শিরোনামে ভারতকে এক দৃঢ় সভ্যতাভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।  আমরা ভারত সরকারকে আপন সভ্যতা ও কৃষ্টির প্রতি দায়িত্ব পালন করার সেই অঙ্গীকার থেকে হৈন্দব সংস্কৃতি জীর্ণোদ্ধারণ নিগম নামক একটি রাষ্ট্রীয় সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থার স্থাপনা করতে অনুরোধ করছি। এই সংস্থার মূলস্বরূপ অন্ততঃ ১০,০০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করতে হবে। প্রতি বৎসর অনুরূপ পরিমাণ অর্থসাহায্যও প্রদান করতে হবে। এই সংস্থার সনদে বর্ণিত উদ্দেশ্যের অনুসারে সংস্থার অর্থ ব্যয় করতে হবে বিধ্বস্ত, জীর্ণ, দীর্ণ, পরিত্যক্ত এবং খণ্ডিত মন্দিরের পুনর্নির্মাণে, বেদ পাঠশালার পুনর্জীবনে, বহুবিধ ধ্রুপদী এবং লোক কলা, নৃত্য, সঙ্গীত, ভাস্কর্য, স্থাপত্য, চিত্রাঙ্কণের পোষণে এবং প্রসারণে। এর ফলে ধ্রুপদী ক্ষেত্রগুলিতে বহু জীবিকানির্বাহের সুযোগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্ট হবে।

Leave a Reply