শ্রী নরেন্দ্র মোদী জী
ভারতের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী
নতুন দিল্লী

 বিষয়: হিন্দুদের দীর্ঘকালীন ন্যায্য সমস্যাগুলির আশু প্রতিকারার্থে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য হিন্দু দাবীসমূহের এক সনদ

১। আমরা ভারতের সমস্ত প্রান্তের সব হিন্দুরা গত কয়েক মাস যাবৎ বিভিন্ন সাংবিধানিক, আইনী এবং জননীতিবিষয়ক বিধিসমূহের আলোচনা করা আসছি যে সব বিধিগুলি হিন্দুধর্ম, হিন্দু সমাজ এবং হিন্দুদের প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি করছে। এই আলোচনার সমাপন হল দিল্লীতে ২২শে সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এবং সেখানে হিন্দুদাবীসমূহের এক সনদ প্রস্তুত করা হল।

২। জনমানসে ক্রমশঃ এক বিশ্বাস জন্ম নিচ্ছে যে ভারত সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে হিন্দুধর্ম এবং অন্যান্য স্থানীয় ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির অনুশীলন থেকে প্রতিনিবৃত্ত করতে ব্যস্ত। সরকার এবং বিচারব্যবস্থা যে কেবল সংবিধানের কয়েকটি ধারা যেমন ২৫নং থেকে ৩০ নং ধারা, হিন্দুধর্ম এবং হিন্দুদের বিরোধী পক্ষপাতী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছেন এবং লাগু করছেন, তা নয়, বরং সংবিধানের বহু সংশোধনীও সেই একই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লাগু করা হয়েছে। সংবিধানের, আইনের এবং জননীতিবিষয়ের এইসব সংখ্যাগুরু বিরোধী বার্তার থেকে জন্ম নিয়েছে এমন এক পরিস্থিতি যে

(ক) আজ ভারতে কেবলমাত্র হিন্দুদেরই অধিকার নেই তাদের নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাবার।

(খ) কেবল হিন্দুদেরই অধিকার নেই নিজেদের উপাসনাস্থল নিজেদের কর্তৃত্বে রাখার।

(গ) হিন্দুদের অধিকার নেই সরকারী জলপানিতে যা কেবল অহিন্দুদের জন্যই বহাল করা হয়েছে।

(ঘ) সরকার এবং ন্যায়ালয় কেবল হিন্দুদের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক রীতি এবং উৎসবগুলিকে বেছে নিয়ে তাদের উপর হুকুমনামা জারি করছে এবং তাদের বিরোধিতা করছে।

৩। গণতন্ত্র এবং আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সংবিধানের ভিত্তি ধর্মনির্বিশেষে নাগরিকদের প্রতি সমান দৃষ্টি এবং সমানাধিকার। এই কথা সংবিধান রচয়িতারা বলেছিলেন এবং সংবিধানেও তা লেখা আছে। কিন্তু এই কথার বিরুদ্ধাচরণ করছে ভারতীয় সরকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হিন্দুদের বেছে বেছে প্রতিকূলতার মুখে ঠেলে দিয়ে।

৪। এই সমস্ত কার্যপ্রণালী রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ক্ষতিসাধনমূলক বিভেদকামী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি হিন্দুদের বিভিন্ন অংশকে উৎসাহ প্রদান করে যাতে তাঁরা অচিরেই নিজেদের অহিন্দু ঘোষণা করে সর্বপ্রকার সুবিধা লাভ করেন। এই উপায়ে তাঁরা হিন্দুর উপরে আবদ্ধ সাংবিধানিক ও আইনী ফাঁস থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ – পূর্বে রামকৃষ্ণ মিশন ও সাম্প্রতিক কালে লিঙ্গায়েৎ সম্প্রদায় নিজেদের অহিন্দু ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রের দ্বারা এহেন বিমাতৃসুলভ আচরণ ও তাদেরকে ছিন্ন-ভিন্ন করার যাবতীয় কলাকৌশলের প্রয়োগ হিন্দু জাতিকে করেছে দ্বিধান্বিত, চিন্তাগ্রস্ত ও নিরাপত্তাহীন যা পূর্বের বিদেশী শাসনব্যবস্থাতেও ঘটেনি।

৫। ভারতীয় সরকারী ব্যবস্থার এইরকম প্রকট হিন্দুবিরোধী মনোবৃত্তির কারণে হিন্দুদের যথার্থ সমস্যাগুলি স্বাধীন ভারতের একের পর এক কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের দ্বারা উপেক্ষিত হচ্ছে এবং তারা প্রতিকারবিহীনতায় ভুগছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম হিন্দুধর্ম হওয়া সত্ত্বেও, আজ হিন্দুধর্ম শতাব্দীর পর শতাব্দী ব্যাপী অত্যাচারী বিদেশী শাসনে যেমনভাবে নিগৃহীত হয়েছে, সেইরকম বা আরও বেশি প্রতিবদ্ধকতার শিকার। এই রকম বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া প্রতিবন্ধকতার কারণে সনাতন ধর্ম বা হিন্দুধর্ম আপনাকে সঞ্জীবিত করতে এবং উদ্দীপিত করতে অক্ষম হয়ে পড়ছে। বর্তমান যুগোপযোগী হিন্দুদের আধ্যাত্মিক দাবী মেটাতে ফলে তা অক্ষম হয়ে পড়ছে। ফলে সনাতন ধর্মের এবং আমাদের দেশেরও অবগতি হচ্ছে।

৬। আমাদের সভ্যতা নিয়ে এই গভীর উপলব্ধিটি স্মরণ করুন। “হিন্দু সংস্কৃতি হিন্দুস্থান বা ভারতের শ্বাসপ্রশ্বাস স্বরূপ। যদি ভারতবর্ষকে রক্ষা করতে হয়, তবে সর্বপ্রথম হিন্দু সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হবে। যদি ভারতে হিন্দু সংস্কৃতি ধ্বংস প্রাপ্ত হয় এবং হিন্দু সমাজের নাম অবলুপ্ত হয়, তবে যে ভৌগোলিক স্থান থাকবে তাকে হিন্দুস্থান বলা উপযুক্ত হবে না। জাতি কিন্তু কেবল ভূগোলের দ্বারা সৃষ্ট হয় না।”

৭। সনাতন ধর্মে নিবদ্ধ আমাদের মহান সভ্যতার উত্তরসূরী, অছি এবং নির্বাহক হিসাবে ভারতীয় রাষ্ট্রের কর্তব্য এই সভ্যতাকে রক্ষা করা, সঞ্জীবিত করা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বহন করা। যে সব সংখ্যাগুরু বিরোধী বা অধিকতর সঠিক ভাবে বললে সভ্যতাবিরোধী আইন এবং জননীতি আছে যারা আমাদের সভ্যতাসূচক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং উত্তরাধিকার নিষ্ঠুরভাবে ধ্বংস করছে, তাদের অবলুপ্তিই ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণের দাবী।

৮। সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী সভ্যতা-সংস্কৃতির উৎস আমাদের সকলের গর্বের সনাতন ধর্মই একমাত্র ধর্মমত যা বচনে-আচরণে “একম্ সদ্বিপ্রাঃ বহুধা বদন্তি” এবং “বসুধৈব কুটুম্বকম্” নামক উচ্চনীতি পালন করে। কোন অতিরঞ্জন ছাড়াই একথা বলা যায় যে এই গতিতে চললে এই সনাতন ধর্ম খুব শীঘ্রই বিলুপ্ত হবে যদি ভারতীয় সরকার এইমুহূর্তে কোন দীর্ঘমেয়াদী সংশোধনীর সূচনা না করে। আমরা চাই গভীরভাবে চিন্তাশীল আইন এবং জননীতির প্রবর্তন যার ভিত্তি না হবে কেবল আমাদের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির জ্ঞান, বরং যা হবে আমাদের সভ্যতার এবং সাংস্কৃতিক নবজাগরণের পাথেয়।

৯। উপরিউক্ত অনুচ্ছেদগুলিতে বর্ণিত কারণে, আমরা স্বাক্ষরকারীরা যথোপযুক্ত আলোচনার পর সর্ববাদীসম্মতিক্রমে স্থির করেছি যে কয়েকটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে আশু প্রতিকারের জন্য আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাব। এই দাবীগুলি নিম্নে বর্ণিত হল। এই দাবীগুলির লক্ষ্য হিন্দুদের জন্য ন্যায় এবং সমভাবাপন্ন সাংবিধানিক, আইনী এবং জননীতি বিষয়ক ব্যবস্থা। এই সব বিষয়গুলিকে আমরা জনমানসে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর যাতে ২০১৯ এর নির্বাচনেও এই দাবীগুলি প্রতিফলিত হয়।

১০। যে ক্ষুদ্র গোষ্ঠী এই সনদ প্রস্তুত করেছে, তার বাইরে বৃহত্তর হিন্দু সমাজের সমর্থনও সনদের প্রতিই আছে।

Leave a Reply