আমাদের সংবিধান অনুযায়ী আমাদের রাষ্ট্রের কোন ঘোষিত ধর্ম নেই, এবং সমস্ত নাগরিকের প্রতি সংবিধানের সমভাব প্রদর্শন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, তার ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে। ভারতের স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে সংবিধান সভা যখন সংবিধান নির্ধারণ করতে আলাপ আলোচনায় রত হয়, তখন ধর্মীয় সংখ্যাগুরুর যে যে অধিকার স্বতঃসিদ্ধ হিসাবে ধরা হয়েছিল তাই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে লিখিত হয়েছিল, দেশভাগ এবং সেই সময়ের পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে। আইনসভার কার্যপ্রণালীর লিপিবদ্ধ রূপ নিরীক্ষণ করলেই তা স্পষ্ট হয়। আমাদের সংবিধান প্রণেতার কখনোই এমন লক্ষ্য ছিল না যে সাংবিধানিকভাবে সংখ্যালঘুদের প্রতি নির্দিষ্ট করা অধিকারের থেকে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়কে বঞ্চিত করা হবে। তবুও সময়ের সাথে সাথে সংবিধানের ২৬ থেকে ৩০ ধারার এমনই ব্যাখ্যা উঠে আসতে থাকে। এর ফলে সংখ্যাগুরুর মনে রাষ্ট্রকর্তৃক বঞ্চনার ধারণা স্থান পেতে থাকে। বলাই বাহুল্য যে রাষ্ট্র সম্পর্কে কোন জনগোষ্ঠীর এমন ধারণা যদি জন্ম নেয় তবে রাষ্ট্রের একতা এবং অখণ্ডতাই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়।

লোকসভার সাংসদ প্রয়াত সৈয়দ সাহাবুদ্দিন সাহেব এই সমস্যা অনুধাবন করে তা নিবারণের স্বার্থে একটি ব্যক্তিগত বিল এনেছিলেন সংসদে। ১৯৯৫ সালের ৩৭ ক্রমিক সংখ্যার এই বিল সংবিধানের ৩০ ধারাকে বদল করে ‘সংখ্যালঘু’র ‘বদলে সমস্ত নাগরিক’ শব্দবন্ধটি এনে এই প্রাতিষ্ঠানিক অসাম্যের ইতি টানার লক্ষ্যে পেশ করা হয়েছিল।

ভারতের সংবিধানে সরকারীভাবে সমস্ত নাগরিকের মধ্যে ধর্ম নির্বিশেষে সাংবিধানিক এবং আইনী সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২৬ থেকে ৩০ ধারায় নিম্নলিখিত পরিবর্তন আনা অবশ্য কর্তব্য। এই পরিবর্তন হলে হিন্দুরা অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুর মত সাংবিধানিক সুযোগ-সুবিধা এবং অধিকার পাবে, যথা-

ক) মন্দির এবং পূজা-অর্চনার অন্যান্য স্থান পরিচালনার অধিকার

খ) সরকারপ্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা, বৃত্তি ইত্যাদি

গ) ভারতের প্রাচীন পুঁথি এবং জ্ঞানার্জনের অন্যান্য পদ্ধতি সরকারী শিক্ষালয়ে পঠনপাঠনের ব্যবস্থা

ঘ) সরকারী হস্তক্ষেপের বাইরে নিজেদের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গঠন এবং তার চালনার অধিকার

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয় ডঃ সত্যপাল সিং কর্তৃক লোকসভায় পেশ করা ব্যক্তিগত বিল (ক্রমাঙ্ক ২২৬, ২০১৬ সাল), যা ২৬ থেকে ৩০ ধারা পরিবর্তনপূর্বক হিন্দুদের পূর্বোক্ত অধিকারগুলি সুনিশ্চিত করার কথা বলে। এই বিলটি অন্য কোন ধর্মীয় গোষ্ঠীর কোন অধিকার ক্ষুণ্ণ করার কথা বলে না, বরং অন্যান্য গোষ্ঠীর জন্য প্রদত্ত অধিকারগুলি হিন্দুদের জন্যও সুনিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে সংবিধানে সাম্য আরো সুস্পষ্ট হয়।

ডঃ সত্যপাল সিং, এবং সৈয়দ সাহাবুদ্দিনের পেশ করা বিল দুইটির প্রতিলিপি সংযোজনীতে দেওয়া হল। সরকারের প্রতি আমাদের প্রথম দাবী ডঃ সত্যপাল সিংয়ের পেশ করা বিলটি সংসদের আগামী অধিবেশনে অবিলম্বে পাশ করা।

Leave a Reply