মানব সভ্যতায় গবাদি পশুর ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা অবিসংবাদিত এবং তা কোন ধর্মের গণ্ডীর মধ্যে অবস্থান করেনা। মূল কারণ হল গবাদি পশু কৃষি ব্যবস্থার স্তম্ভস্বরূপ। গত কিছু বৎসরে ভারত থেকে মাংস/গো-মাংস রপ্তানীর হার মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়েছে যা সমগ্র বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিতে এক কলঙ্কলেপন করেছে। যাঁরা এখনো এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন, তাঁদের জানা প্রয়োজন যে শুধুমাত্র ২০১৭-১৮ সালে ভারত থেকে এক্ষেত্রে ১৪ লক্ষ টন মাংস রপ্তানী করা হয় বহির্বিশ্বে। এই ব্যবসার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা প্রচ্ছন্ন উৎসাহপ্রদান ভারতের অভ্যন্তরে মাংস/গো-মাংসর দাম মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বাড়িয়ে তুলেছে।  এর দরুন, একইসাথে, মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে উৎকট লোভ, গবাদি পশু চুরি, বে-আইনী পশু হত্যা এবং পশু মাফিয়ার মহা শক্তিশালী পরিকাঠামো যা প্রত্যেক রাজ্যের প্রশাসনের কাছে একটি বিশেষ চিন্তার বিষয় বর্তমানে। নিঃসন্দেহে, ভারতের ২৯ টি রাজ্যের ২০টিতে অন্তত আইন আছে গরু/গবাদি পশু হত্যার নিবারণের জন্য। কিন্তু তা কার্যকর হওয়ার পরিবর্তে ক্রমশ এক চূড়ান্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে।

যেহেতু রাজ্য সরকারগুলি চূড়ান্ত ব্যর্থতার সম্মুখীন হচ্ছে গো-মাংস/মাংস মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণ করতে, স্থানীয় সম্প্রদায়গুলি এগিয়ে আসছে এই ভয়ঙ্কর অবস্থাকে প্রতিহত করার জন্যে। এর দুটি কারণ – এই ধরনের ব্যবসার বৃদ্ধি তাঁদের নিজেদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতি এক ভয়ঙ্কর বিপদের বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে; দুই – গবাদি পশু বিশেষ করে গরুর সাথে যুক্ত ধর্মীয় ভাবাবেগ। অতএব, প্রশাসনের ওপর আস্থা জনমানসে ক্রমশ কমছে যা আগামীদিনে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি এক বিপদের ইঙ্গিত। মাফিয়াগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ গণমাধ্যমে গণহত্যা (lynching) বা আইনী প্রক্রিয়াকে অগ্রাহ্য করে হত্যা করা নামে অবহিত হচ্ছে। গণমাধ্যমে এই তথ্য সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে পরিবেশিত হয়েছে যার দরুন গ্রামীণ গোষ্ঠী বা হিন্দু জাতিই হত্যাকারী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সমস্যা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে মহামান্য সর্বোচ্চ বিচারালয় পর্যন্ত চঞ্চল হয়ে রাজ্য সরকারকে lynching অথবা জনতার রায়ে দোষীসাব্যস্ত ব্যক্তিকে শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করতে বলেছে। এই ক্রমবর্ধমান অপ্রীতিকর অবস্থার মূল কারণ ভারতবর্ষের রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যেই নিহিত –

ক) প্রথমত, ভারতীয় সংবিধানের ধারা ৪৮ কে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করে কেন্দ্রীয় সরকার সর্বপ্রকার উৎসাহ প্রদান সহকারে মাংস/গো-মাংস রপ্তানীকে বৃদ্ধি করছেন যার দরুন ভারত ইতিমধ্যেই সমগ্র বিশ্বে সর্বোচ্চ গো-মাংস রপ্তানীকারক দেশে রূপান্তরিত হয়েছে;

খ)   দ্বিতীয়ত, রাজ্য সরকারগুলির চূড়ান্ত, হাস্যকর ব্যর্থতা মাংস/গো-মাংস এবং পশু মাফিয়ার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ণের ক্ষেত্রে।

অতএব, এই ক্রমবর্ধমান সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা, মাফিয়ার উপদ্রব সমূলে বিনাশ করার জন্য মাংস/গো-মাংস রপ্তানীর ক্ষেত্রে একটি সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা সত্বর প্রয়োজন।  একইসাথে, কেন্দ্রীয় সরকারকে সংবিধানের ধারা ৪৮এর সার্থক প্রণয়নের পাশে সভ্য সমাজের প্রতি তার অঙ্গীকার হিসেবে গবাদি পশুকে সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।

তদনুসারে, কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করা হচ্ছে –

ক)  পশুসম্পত্তি, মাংস/গো-মাংস রপ্তানীর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে;

খ)  Agricultural and Processed Food Products Export Development Authority Act, 1985 কে সংশোধন করে “মাংস, মাংসজাত দ্রব্য, কসাইখানা” নামক শব্দগুলি চিরতরে বাতিল করতে;

গ) বিজেপির ২০১৪ সালের নির্বাচনী ঘোষণাপত্র অনুযায়ী Agricultural Cattle Preservation Act   কে সমগ্র ভারতে বাস্তবায়ন করা, ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের সকল রাজ্যের সংশ্লিষ্ট আইনগুলি নিলম্বিত করা, সংবিধানের ৭ম তফসিলের যুগ্ম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত Chattisgarh Agricultural Cattle Preservation Act, 2004 (as per item No. 17)  অনুসারে।

আরও বিনীতভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে, এ সংক্রান্ত যাবতীয় আইনী প্রণয়ন আসন্ন সংসদের অধিবেশনে সমাপ্ত করার জন্যে। অথবা, এ সংক্রান্ত সরকারী অধ্যাদেশ সত্বর জারী করার জন্য।