বিজেপি সঠিকভাবেই সংবিধানের ৩৭০নং ধারাকে কাশ্মীরের সমস্যার মূলসূত্র হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এই ধারা জাতীয় সংহতির পথে এক অন্তরায়ও। সেজন্য বিজেপি বরাবর সংবিধানের ৩৭০ নং ধারার বিলুপ্তির দাবী করেওছে। ২০১৪এর নির্বাচনী ইস্তাহারেও সেই দাবী উঠে এসেছে। যদি এই ধারা অবলোপ করা না হয়, তবে কাশ্মীর সমস্যা কোনদিনই মিটানো যাবে না। তার উপর জম্মু কাশ্মীর রাজ্যে বিধানসভার আসনগুলি জনসংখ্যার মোতাবেক নেই বরং এমন ভাবেই করা হয়েছে যাতে কাশ্মীর উপত্যকার প্রভুত্ব বজায় থাকে। সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীই কাশ্মীর থেকে হয় এবং জম্মু ও লদাখ পরিণামে উপেক্ষিত হয়। সাংস্কৃতিক ভাবেও এই তিনটি অঞ্চল পৃথক। ফলে কাশ্মীর অঞ্চলের দ্বারা বাকীদের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক অবলুপ্তির শঙ্কা নিরর্থক নয়। কাশ্মীরীর হিন্দুরা কয়েক বছর আগে এরকমই অকথ্য অত্যাচারের সম্মুখীন হয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাই জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের ত্রিভঙ্গকরণ অবশ্য প্রয়োজন যাতে অন্যান্যদের অস্তিত্ব সংকট না হয় এবং তাঁরা তাঁদের নির্দিষ্ট জনবিন্যাস, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করতে পারেন। কাশ্মীরী হিন্দুদের উপর গণহত্যাদি যেরকম সাম্প্রদায়িক অত্যাচার ঘটেছিল, সেরকম কোন ঘটনাকে অগ্রিম প্রতিহত করতে আমাদের দাবী:

(ক) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০নং অনুচ্ছেদের বিলুপ্তি যা কাশ্মীর সমস্যার উৎস। তার সাথে সাথে সংবিধান নির্দেশ ১৯৫৪ (জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এর অবলুপ্তি যাতে অনুচ্ছেদ ৩৫ক সহ সমস্ত বৈষম্যমূলক সংবিধানের অনুচ্ছেদ বাতিল হয়। এ সমস্তই বিজেপির ২০১৪এর নির্বাচনী ইস্তাহারেই আছে।

(খ) জম্মু এবং কাশ্মীর রাজ্যকে তিনখণ্ডে বিভাজন যথা কাশ্মীর, জম্মু এবং লদাখ।

(গ) কাশ্মীরী হিন্দুদের আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসাবে মর্যাদাপ্রদান করে আইন প্রণয়ন যাতে যতদিন এই সম্প্রদায় কাশ্মীরে পুনর্বাসন না পায় ততদিন তারা অন্যান্য প্রাপ্য সুযোগসুবিধা পেতে পারে।

Leave a Reply