ভারতবর্ষ একটি আত্ম-নির্ভরশীল সার্বভৌম রাষ্ট্র যা বিদেশী অনুদানের অপেক্ষায় থাকেনা। একটি বিখ্যাত আমেরিকান প্রবাদ আছে বিনামূল্যে কিছুই পাওয়া যায় না। এই দৃষ্টিতে বিচার করলে বোধগম্য হয় যে বিপুল পরিমাণে বিদেশী অনুদান কোন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই প্রদত্ত হয় এবং তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল আমাদের সমাজকে পদানত করা, জনসংখ্যার ভারসাম্য বিনষ্ট করা, রাষ্ট্রীয় সংহতি ও ঐক্যের ক্ষতিসাধন করা, সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা, সামাজিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত উন্নতির পক্ষে বারংবার বাধা সৃষ্টি করা, ক্ষতিসাধক বিদেশী শক্তির সুবিধা হেতু আমাদের আত্মগরিমাকে নষ্ট করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে বিস্তৃত সহস্র সহস্র তথাকথিত অলাভজনক সংস্থাকে বিপুল পরিমাণে বিদেশী অনুদান দেওয়া হয় বিভিন্ন বিদেশী সংস্থার দ্বারা যারা সেই দেশগুলির  প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ ও অদৃশ্য শক্তির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এ এক অকথিত সত্য যে এই বিপুল অর্থের এক বৃহৎ অংশ ব্যয় করা হয় মানবিক বা সামাজিক কার্যের মাধ্যমে ভারতবর্ষের সুবিশাল প্রশাসনিক, আইনী ও বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার জন্য আর তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবধারা এবং জাতীয় কৃষ্টির চূড়ান্ত ক্ষতিসাধন।

যাঁরা নিজেদের সুশীল সমাজ হিসেবে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন তাঁরা আপন সমাজের প্রতিভূ নন, বরং অবধারিত ভাবে কোন বিদেশী সংস্থা দ্বারা পুষ্ট হন।  নিঃসন্দেহে, এই বিশেষ সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ তাঁদের বিদেশী প্রভুর আদেশানুসারে সমস্ত সূক্ষ্ম এবং স্থূল প্রচেষ্টায় রত হন, উদ্দেশ্য দেশের চূড়ান্ত ক্ষতি।

সরকারী সূত্র থেকে প্রাপ্ত নিম্নলিখিত তথ্য দৃশ্যতঃ প্রমাণ করে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক চরিত্র ও তার দুর্দমনীয় প্রচেষ্টা বিদেশী অনুদান রদ করতে যতই আন্তরিক ও বলিষ্ঠ হোক না কেন, বৈদেশিক অনুদানের সংখ্যা ক্রমশ ঊর্ধ্বগামী যার দরুন ভারতের নিজস্ব বিষয়গুলিতে বহিরাগত হস্তক্ষেপের আশঙ্কা এক ভয়ঙ্কর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ক্রমসংখ্যা বর্ষ এফ সি আর এ আইনে গৃহীত অর্থ সূত্র
২০১০-১১ ১০,৮৬৫ কোটি টাকা গৃহ মন্ত্রক, পত্র সংখ্যা

II/21011/58(974)/2017-FCRA-MU তাং ৭ই নভেম্বর ২০১৭, তথ্যের অধিকারের আবেদনের উত্তরে গৃহীত

২০১১-১২ ১১,৯৩৫ কোটি টাকা
২০১২-১৩ ১২,৬১৪ কোটি টাকা
২০১৩-১৪ ১৪,৮৫৩ কোটি টাকা
২০১৪-১৫ ১৫,২৯৭ কোটি টাকা
২০১৫-১৬ ১৭,৭৬৫ কোটি টাকা
২০১৬-১৭ ১৮,০৬৫ কোটি টাকা ১লা জুন ২০১৮ তে গৃহ মন্ত্রকের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোকে দেওয়া তথ্য

নিঃসন্দেহে, এক স্বয়ংসম্পূর্ণ ও গর্বিত রাষ্ট্র হিসেবে আমরা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষণেও বৈদেশিক সাহায্যের আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে সঠিক কার্য করেছি কিন্তু একইসাথে আমাদের অন্যক্ষেত্র গুলিতেও এরকম পর্বত-প্রমাণ অটল অবস্থা গ্রহণ করতে হবে নতুবা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সংকটাপন্ন ক্রমশঃ হবেই। আমাদের সর্বথা মনে রাখতে হবে যে ত্রাণ, পুনর্বাসন, ধর্মীয় ও দাতব্য ক্ষেত্রে ব্যয় করতে আমরা স্বনির্ভরশীল; তার জন্য অর্থ জোগাড়ের ক্ষেত্রেও।

অতঃপর, বিদেশী অনুদানের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা এক অবশ্য কর্তব্য হিসেবে উপস্থিত হয়েছে দেশের সামনে। এছাড়া আর কোন বিকল্প পথ নেই।  প্রত্যেক ব্যবস্থাতেই আইনী প্রক্রিয়ায় পলায়নের পথ থাকে, সেটি বন্ধ করতেও মাতৃভূমির সুরক্ষার স্বার্থে এমন কঠোরতম প্রত্যয়ই অবলম্বন করতে হবে।

ভারতবর্ষের বিদেশী রাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিরা চিরদিনই রাষ্ট্রের নব নির্মাণে প্রশংসনীয় অবদান রেখেছেন। তাই, তাঁদের হৃদয়াবেগের স্বীকৃতিস্বরূপ একমাত্র বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় দ্বৈত নাগরিকদের থেকেই (Overseas Citizens of India (OCIs) থেকেই ব্যক্তিগত ভাবে  অনুদান গ্রহণ বাঞ্ছনীয়, এই সাহায্য হওয়া উচিত নয়  প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে । আর সাহায্যেরও একটি নির্দিষ্ট অভিমুখ থাকা বাঞ্ছনীয় যথা সামাজিক উন্নতি, প্রাচীন ভারতের প্রজ্ঞা সম্পর্কে গবেষণা ও বিদ্যাদান ইত্যাদি।

OCIs বা ভারতের দ্বৈত নাগরিকরা এবং যেসব মানবহিতৈষী বিদেশী ব্যক্তিত্বরা ভারতের সংস্কৃতির প্রতি অনুরক্ত এবং গবেষণা, ভারতীয় প্রাচীন শাস্ত্র, বিদ্যার্জনের ক্ষেত্র ব্যতিরেকে অনুদান দিতে চান, তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সাহায্য করতে পারেন।

আমরা, অতএব, বিনীতভাবে আবেদন করি আসন্ন সংসদ অধিবেশনে  “বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) – ২০১০” আইনকে রদ করে “বিদেশী অনুদান (নিষিদ্ধকরণ)” আইন প্রবর্তন করার জন্য যাতে শীঘ্রই ভারতের ভূমি হতে বিদেশী অনুদানের নামে যথেচ্ছাচার করার সমস্ত প্রক্রিয়া চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। একমাত্র বিদেশী বসবাসকারী ভারতের দ্বৈত নাগরিকরা ছাড় পেতে পারেন এই ক্ষেত্রে।

অথবা, এক্ষণেই সরকারী অধ্যাদেশ ঘোষণা করা যেতে পারে।

Leave a Reply